আমাদেরবাংলাদেশ ডেস্ক।। প্রিয়জন হারানোর ক্ষতদাগ কতটা বেদনার, কতটা কষ্টের, যে হারায় শুধু সেই বোঝে। গতবছর এই দিনে (২০ ফেব্রুয়ারি) চুড়িহাট্টায় কেমিক্যালের আগুনে প্রাণ ঝরেছিলো ৬৭ জনের। সেদিন পুরান ঢাকার আকাশ কেঁপেছিল স্বজনদের আহাজারিতে। নির্মম সেই পরিস্থিতিতে স্বজনহারাদের পাশে থাকার কথা দিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু এক বছরে তেমন কোনো সহায়তা পাননি স্বজনরা। চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির একবছর। অন্য আট-দশদিনের মতোই ছিল সেদিনের রাতটি। কর্মব্যস্ত চুড়িহাট্টা মোড়। মুহুর্তেই বিস্ফোরণ ছিন্নভিন্ন সবকিছু।
ভয়াল সেই আগুন কেড়ে নেয় ৭১ জনের প্রাণ, আর যে ভবন থেকে এই সর্বনাশ সেই ওয়াহিদ ম্যানশনের পোড়াক্ষত এখনও অক্ষত। ঘটনার সাক্ষ্মী হয়ে ওয়াহিদ ম্যানশন দাঁড়িয়ে আছে ঠিকই তবে যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের স্মৃতিতে প্রতিটিক্ষণ ব্যাথাতুর বেদনাময়। ৪ মাসের আবরাজ পৃথিবীর আলো দেখার আগেই আগুনে নিভে গেছে তার বাবা মাহবুবুর রহমানের জীবনের আলো। আর ছেলেকে হারিয়ে এখন নাতিকে নিয়েই সাহেব উল্লাহর কাটছে জীবনের পড়ন্ত বেলা।
পেরিয়ে গেছে একটি বছর, তবু থামেনি ফাতেমা আক্তারের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ। ঘটনার ২২দিন পর্যন্ত আশাটুকু বাঁচিয়ে রেখেছিলেন স্বামী হয়তো ফিরবেন। ফিরে পেয়েছিলেন ঠিকই তবে অঙ্গার দেহটাই। ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘এখনও আমার ধারণা তিনি মারা যাননি। একদিন হয়ত ফিরে আসবে। এমন মৃত্যু যেন কারো না হয়। ২২টি দিন ধরে পাই নাই। যা দেখছি তা ভুলতে পারি না।’
সেই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিল অনেকে তবে একবছরেও এই অসহায় পরিবারগুলো পাশে পায়নি কাউকে। সরকার বলছে আমাদের সহযোগীতা করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সহযোগীতা করেনি।’ঘটনার পর কয়েকদিন তোড়জোড় ছিল পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন অপসারণে। কদিন বাদেই সেই একই চিত্র। জীবন যতই দুর্বিষহ হোক, থেমে থাকে না কর্মচক্র। তাইতো আগের মতোই ব্যস্ত চুড়িহাট্টার নন্দকুমার দত্ত সড়কটিও।